“লক্ষ্মীধর পাড়া + সেভেন সিস্টার্স” এটি কোনো প্রশাসনিক পরিচয় নয়; এটি একটি সামাজিক, মানবিক ও আত্মিক সম্পর্কের প্রতীক।

14 Sep

কিছু সম্পর্কের কোনো লিখিত দলিল থাকে না, কোনো সীমানারেখায় তাদের পরিমাপ করা যায় না, তবুও সেই সম্পর্ক প্রজন্মের পর প্রজন্ম মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকে। লক্ষ্মীধর পাড়া এবং তার স্থলসীমায় সরাসরি সংযুক্ত সাত প্রতিবেশী জনপদ ভোলাকোট, বিষ্ণুপুর, হাপানিয়া, উদয়পুর, মুক্তারপুর, বাইশসিন্দুর ও দেবনগর তেমনই এক অদৃশ্য অথচ গভীর সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ।

 

গ্রামের মেঠোপথ, ধানের ক্ষেত, খাল-বিল, পুকুরের ঘাট, পাশাপাশি বাড়ির উঠান, বাজারের চেনা মুখ, শৈশবের খেলাধুলা, স্কুলে যাওয়ার পথ কিংবা কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে একসঙ্গে বসার স্মৃতি এসবের মধ্য দিয়েই যুগের পর যুগ তৈরি হয়েছে আমাদের পারস্পরিক পরিচয় ও আপনত্বের গল্প। সময় বদলেছে, মানুষ কেউ শহরে গেছেন, কেউ দূর প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছেন; কিন্তু শেকড়ের সেই টান, পরিচিত মাটির সেই গন্ধ আর প্রতিবেশী মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক আজও হৃদয়ের গভীরে অমলিন। তাই “লক্ষ্মীধর পাড়া + সেভেন সিস্টার্স” শুধু সাতটি জনপদের একটি নাম নয়; এটি আমাদের কাছে ফেলে আসা শৈশব, মাটির সঙ্গে সম্পর্ক, মানুষের প্রতি মানুষের টান এবং একে অপরের পাশে থাকার এক সুন্দর অনুভূতির প্রতীক।

 

কোনো বাড়ির আনন্দ যেমন পাশের বাড়ির মানুষকে ছুঁয়ে যায়, তেমনি কারও বিপদেও প্রতিবেশীর দরজায় প্রথম কড়া নাড়ে আপন মানুষ; এভাবেই ছোট ছোট মানবিক সম্পর্কগুলো একদিন একটি বৃহত্তর সামাজিক বন্ধনে রূপ নেয়। আমরা বিশ্বাস করি, একটি পাড়া বা গ্রামের প্রকৃত সৌন্দর্য শুধু তার ঘরবাড়ি কিংবা সীমানায় নয়—তার প্রকৃত সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে মানুষের সম্পর্কের উষ্ণতায়, পারস্পরিক শ্রদ্ধায়, সহযোগিতায় এবং সেই চিরচেনা আপনত্বে। সেই শেকড়ের সম্পর্ককে আরও কাছে আনা, পুরোনো পরিচয়কে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং লক্ষ্মীধর পাড়ার সঙ্গে সেভেন সিস্টার্সের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করার লক্ষ্যেই লক্ষ্মীধর পাড়া ঐক্য ফোরাম (LPUF) আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

 

আমরা চাই, দূরত্ব যতই বাড়ুক, মানুষের হৃদয়ের দূরত্ব যেন না বাড়ে; প্রজন্ম বদলালেও যেন হারিয়ে না যায় আমাদের চেনা পথ, চেনা মানুষ আর একে অপরের প্রতি সেই পুরোনো টান। আজকের ব্যস্ত পৃথিবীতে ফিরে তাকালে হয়তো মনে হবে সেই মেঠোপথ আর আগের মতো নেই, সেই বিকেলের খেলাধুলা নেই, সেই উঠানের আড্ডাও অনেকটাই হারিয়ে গেছে; কিন্তু স্মৃতির পাতায় সেই দিনগুলো আজও জীবন্ত। আর সেই স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে লক্ষ্মীধর পাড়া ও তার সাত প্রতিবেশী জনপদের মানুষের মুখ, গল্প ও ভালোবাসা।

 

ভোলাকোট, বিষ্ণুপুর, হাপানিয়া, উদয়পুর, মুক্তারপুর, বাইশসিন্দুর ও দেবনগর এই সাত জনপদ আমাদের কাছে শুধু প্রতিবেশী নয়; তারা আমাদের বৃহত্তর সামাজিক পরিমণ্ডলের আপন মানুষ, আমাদের শেকড়ের গল্পেরই অংশ। আমরা চাই, এই সম্পর্ক আরও গভীর হোক, নতুন প্রজন্ম একে অপরকে জানুক, সামাজিক সহযোগিতার নতুন পথ তৈরি হোক এবং আমাদের হারিয়ে যেতে বসা আন্তরিকতার বন্ধন আবারও শক্ত হয়ে উঠুক। কারণ মানুষ যত দূরেই যাক, যত আধুনিকই হোক, শেষ পর্যন্ত হৃদয় ফিরে যেতে চায় সেই চেনা মাটির কাছে যেখানে রয়েছে তার শৈশব, তার মানুষ, তার স্মৃতি এবং তার শেকড়। লক্ষ্মীধর পাড়া + সেভেন সিস্টার্স—সেই শেকড়ের টানেই আমরা এক, সেই স্মৃতির বন্ধনেই আমরা আপন, আর সেই ঐক্যের পথেই আমাদের একসঙ্গে এগিয়ে চলা।

শেকড়ের কথা বলি, স্মৃতিকে কবিতায় বাঁচিয়ে রাখি।